ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকদের দেরিতে আসা ও আগেভাগে চলে যাওয়ার প্রবণতা: বায়োমেট্রিকে গরমিল, পরিচালকের কড়া নোটিশ
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ে না আসা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পর্যালোচনাতেই। এতে কাঙ্ক্ষিত ও জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা।
হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর দুই বিভাগেই এই অনিয়মের প্রমাণ মেলার পর কঠোর নির্দেশনা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির।
বায়োমেট্রিক তথ্যে ভয়াবহ চিত্র
হাসপাতাল প্রশাসনের সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়—
দেরিতে উপস্থিতি: সকাল ৮টায় হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় থাকলেও বহির্বিভাগের ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৬৫ শতাংশ চিকিৎসক সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে প্রবেশ করছেন।
আগেভাগে প্রস্থান: দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হাসপাতাল ত্যাগের নিয়ম থাকলেও বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও এবার পরিচালকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হলো।
কর্তৃপক্ষের কঠোর বার্তা ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। সকল চিকিৎসককে সকাল ৮টায় উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এটিকে প্রাথমিক সতর্কীকরণ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দায়িত্বহীনতার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ অনুযায়ী বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
দৈনিক জীবনযাত্রা