হবিগঞ্জে আমেরিকা প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি: আদালতে যুবদল নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, এফআইআরের নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে আমেরিকা প্রবাসীর কেনা জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে একটি নালিশি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর ছেলে।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহেদুল আলম অভিযোগটি গ্রহণ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারা অনুযায়ী ৩ দিনের মধ্যে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য মাধবপুর থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার প্রধান ও অন্যান্য অভিযুক্তরা
অভিযোগে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃত মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. শামসুল ইসলাম কামালকে (৫৮) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন:
মো. ইমরান আহমেদ (৪০), পিতা: মৃত সালেহ আহমদ, সাং- মালঞ্চপুর
মো. আশিকুর রহমান ওরফে মামুন মেম্বার (৪৫), পিতা: মৃত মতিউর রহমান মাস্টার, সাং- আলীনগর
কুদ্দুছ মিয়া (৩০), পিতা: মৃত একরাম হোসেন, সাং- আলীনগর
মো. শাহ আলম (৫২), পিতা: মৃত মকবুল মিয়া, সাং- কালিকাপুর
এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও হামলার বিবরণ
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহিনুর আলম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি হবিগঞ্জে জমি কিনে বাড়ি তৈরির প্রস্তুতি নেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নির্মাণকাজের সার্বিক তদারকি করছিলেন তাঁর ছেলে সানি আলম শ্রাবণ (১৮)। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত মো. শামসুল ইসলাম কামাল আমেরিকা প্রবাসী শাহিনুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়ি নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৬ আগস্ট সকালে হবিগঞ্জের পশ্চিমবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন স্থানে সঙ্গীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাধা দেন আসামিরা। এ সময় প্রবাসীর ছেলে শ্রাবণ ও শ্রমিকদের মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং চাঁদা না দিলে এলাকায় কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না বলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
থানা পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জানান, "আদালত থেকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য ৩ দিনের সময়সীমা দিয়ে আদেশ এসেছে। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক যথাসময়ে মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা