তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত অন্তত ৫
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট থেকে: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আল আমিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামে এ মর্মান্তিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ ও হামলা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে শিশুদের ফুটবল খেলার সময় এক শিশুর পায়ে অন্য এক শিশুর আঘাত লাগলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি বড়দের মধ্যে গড়ায় এবং আব্দুন নূর ও আল আমিনের পরিবারের লোকজনের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সাময়িক নিষ্পত্তি করা হলেও শনিবার বিকেলে পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুন নূরের পক্ষের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আল আমিনের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আল আমিন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ও পুলিশের অভিযান
নিহত আল আমিনের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় আব্দুন নূর, লতিফ, কুদ্দুছ ও জাকিরসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে এ বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন আত্মগোপনে থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
"মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।"
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা