সিলেটে ট্রিপল মার্ডারে নিহত আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রীর জানাজায় মানুষের ঢল: মানিকপীর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার এবং তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে শুক্রবার বিকেলে নগরীর ঐতিহ্যবাহী হযরত মানিকপীর (রহ.) গোরস্থানে তাঁদের মরদেহ দাফন করা হয়।
হৃদয়বিদারক এই জানাজার নামাজে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মুসল্লি অংশ নেন। এ সময় পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
একমাত্র ছেলের আবেগঘন বক্তব্য
জানাজার আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি বলেন:
"আমরা প্রবাসী—দুই বোন ও এক ভাই। আমি আমার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। আমাদের বৃদ্ধ মা-বাবা ও গৃহকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই শোক সহ্য করার তৌফিক দান করেন, আপনারা সবাই সেই দোয়া করবেন। আমার বাবার জীবদ্দশায় ও চলাফেরায় কেউ কোনো কষ্ট বা আঘাত পেয়ে থাকলে মা-বাবাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর বাবার কাছে যদি কারও কোনো দেনা-পাওনা থাকে, তবে আমাকে জানাবেন, আমি তা পরিশোধ করে দেব।"
মুসল্লি ও বিশিষ্টজনদের স্মৃতিচারণ
জানাজায় অংশ নেওয়া বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মরহুম আব্দুস সাত্তারের স্মৃতিচারণ করে বলেন, মিতালী আবাসিক এলাকার একজন অমায়িক, সদালাপী, পরহেজগার ও ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে তিনি সবার অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। বিদায়লগ্নেও অসংখ্য মানুষের শ্রদ্ধা, দোয়া আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন এই প্রবীণ দম্পতি।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট (বুধবার) সকাল আনুমানিক ৯টায় মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় ঢুকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনাকে (২৫) ঠান্ডা মাথায় নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে ঘাতক বাবুল। পুলিশ দ্রুততম সময়ে প্রধান অভিযুক্ত বাবুলকে রক্তমাখা ছুরিসহ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী