সিলেটে চাঞ্চল্যকর ৩ খুনের মূল অভিযুক্ত বাবুল কারাগারে: উদ্ধার করা হয়েছে রক্তমাখা ছোরা, কাল মামলা দায়ের
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত প্রধান অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে (৪০) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাঈনুল জাকির।
রক্তমাখা অস্ত্র উদ্ধার ও খুনের রোমহর্ষক বিবরণ
গত বুধবার (১২ আগস্ট) রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে বাসার মালিক ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনার (২৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরদিনই রায়নগর রাজবাড়ী এলাকা থেকে বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমঘটিত সম্পর্কের সূত্র ধরে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশ করেন। অনৈতিক ও শারীরিক সম্পর্কে অস্বীকৃতি জানানোয় বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে তাহমিনাকে এবং পরে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে চাকুর আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেন।
বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করেছে।
স্বজনদের দেশে ফেরা, কাল মামলা ও দাফন
নিহত প্রবীণ দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুই মেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দেশে পৌঁছান। তাঁরা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের মরদেহ গ্রহণ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার শুক্রবার দেশে পৌঁছানোর পর নিহতদের দাফন সম্পন্ন হবে এবং কোতোয়ালী থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সুরক্ষার স্বার্থে ওই বাসভবনে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক উপদেষ্টা ছিলেন।