ময়মনসিংহে মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে বিরোধের মামলায় ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সেক্রেটারিসহ ৩ নেতা কারাগারে
দৈনিক জীবনযাত্রা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে সংঘর্ষের জেরে দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সেক্রেটারিসহ শীর্ষ তিন নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৯ আগস্ট) ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে আসামিরা হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাঁদের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন— ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ফজলুল হক শামীম, উপজেলা সেক্রেটারি ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও আলহেরা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ। জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।
ঘটনা ও মামলার পটভূমি
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়ার কাহালগাঁও বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে একটি খামারে লেয়ার মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছিল। খামারের উৎপাদিত মুরগির বিষ্ঠা (যা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়) নেওয়া কেন্দ্র করে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রাতে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষের সময় হাতবোমার বিস্ফোরণ, একটি ব্যাংকের তালা ভেঙে টাকা লুটপাট এবং প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার পরদিন ৮ এপ্রিল উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জামায়াত ও শিবিরের ৪৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এমপির ভাইয়ের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
উক্ত মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য (ময়মনসিংহ-৬) কামরুল হাসান মিলনের ভাইসহ একাধিক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। রবিবারের নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় সংসদ সদস্যের ভাইসহ অন্য কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরে দ্রুত বিচার আইনে জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতার কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এস এম সোহাগ ফরাজী