
আমি কোনো দল করি না, অপপ্রচার না থামলে আইনি ব্যবস্থা’: আওয়ামী লীগের দোসর বানানোর চেষ্টায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যবসায়ী আহমদ আলীর তীব্র প্রতিবাদ
যুক্তরাজ্য ডেক্স। রিপোর্ট
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আহমদ আলীকে জড়িয়ে ‘যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দোসর আহমদ আলীর রূপ বদল’ শিরোনামে প্রচারিত সংবাদটি সম্পুর্ণ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর। তিনি এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এক লিখিত প্রতিবেদনে আহমদ আলী জানান, "আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আমি আওয়ামী লীগ করি না, বিএনপিও করি না। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যবসায়িক ও সামাজিক কাজের সুবাদে সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকাটাই স্বাভাবিক।"
তিনি আরও বলেন, "আমি লক্ষ্য করলাম, আমার নামে কিছু গণমাধ্যম ও একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য পিছে লেগে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই অপপ্রচার যদি অনতিবিলম্বে বন্ধ না হয়, তবে একজন সচেতন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সবাইকে এ ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।"
আহমদ আলী জানান, যুক্তরাজ্যে তাঁর দীর্ঘদিনের মূল পরিচয় একজন নির্দলীয় ব্যবসায়ী হিসেবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি, সাংগঠনিক পরিচয় বা প্রাথমিক সদস্যপদও তাঁর নেই। কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে তিনি কখনো সক্রিয় রাজনীতি করেননি এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেননি। যুক্তরাজ্যে তিনি একটি কমিউনিটি সেন্টার ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যেখানে বিভিন্ন সময়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আগমন ঘটে।
কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনার স্বাভাবিক ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, অভ্যর্থনা জানানো ও স্মৃতি হিসেবে ছবি তোলা একটি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রটোকল।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো মন্ত্রী বা নেতার সঙ্গে একটি সৌজন্যমূলক ছবি থাকা কীভাবে একজন ব্যক্তির দলীয় পরিচয়ের প্রমাণ হতে পারে? তিনি প্রকাশ করেন যে, শুধু আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেই নয়—সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী-এমপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেও তাঁর অসংখ্য ছবি রয়েছে। অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেবল একটি নির্দিষ্ট দলের নেতাদের ছবি বেছে নিয়ে খণ্ডিতভাবে প্রকাশ করা রাজনৈতিক সাংবাদিকতা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
তিনি আহ্বান জানান, অনুমান, গুজব কিংবা খণ্ডিত ছবি দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ না করে যদি সত্যি কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ থাকে, তা যেন তথ্যপ্রমাণসহ জনসমক্ষে আনা হয়। তিনি তথ্যভিত্তিক যেকোনো প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত।
সংবাদমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কারো দেওয়া খণ্ডিত তথ্য বা ব্যক্তিগত সুবিধা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কারো চরিত্র হননে লিপ্ত হওয়া অনুচিত। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রকাশে একজন নির্দোষ মানুষের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম মুহূর্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সত্য ও বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত অপপ্রচারকে পরাজিত করবে। একই সাথে নিজের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্মান রক্ষার্থে এ ধরনের মিথ্যা প্রচার অবিলম্বে বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তিনি সংরক্ষণ করছেন।