সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ: মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার
শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভান্ডারী | স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক জীবনযাত্রা
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরী কলেজ ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ইমামের নাম হুমায়ুন আহমেদ (৩০)। তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে এবং রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবেড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা ও পুলিশি তথ্যের বিবরণ:
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপড়া জামে মসজিদে ইমামতির সুবাদে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন হুমায়ুন আহমেদ। একপর্যায়ে দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক কিশোরী ছাত্রীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তিনি তাঁকে বিয়ের আশ্বস্ত করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৪ মে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (মেসেজ) পাঠিয়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মসজিদ সংলগ্ন নিজের থাকার কক্ষে ডেকে নিয়ে ওই কিশোরীকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন হুমায়ুন। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য চাকুর ভয় দেখিয়ে হুমকি দেন তিনি। পরবর্তীতে গত ১৭ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে আবারও নিজের ঘরে নিয়ে তাঁকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া নিজের বর্তমান স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন।
একপর্যায়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ওই কলেজ ছাত্রীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশ ও আইনি পদক্ষেপ:
এ ঘটনায় গত ২৬ জুলাই ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত ইমাম হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, "আদালতের নির্দেশনানুযায়ী থানায় মামলা রেকর্ড করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আজ বুধবার বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হবে।"
এস এম সোহাগ ফরাজী