ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: পৌরসভায় উন্নীত হচ্ছে সিলেটের জৈন্তাপুর, প্রজ্ঞাপন জারি
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী | দৈনিক জীবনযাত্রা:
সিলেটের সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী জৈন্তাপুর উপজেলা অবশেষে পৌরসভায় উন্নীত হতে যাচ্ছে। উপজেলার নির্ধারিত পল্লী এলাকাগুলোকে শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অগ্রাধিকারমূলক তৎপরতার ফলেই অবহেলিত এই জনপদে আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে নতুন এ পৌরসভা গঠনের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হলো।
উপ-সচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা থেকে গত ৯ জুলাই ‘এসআরও নং ২৮১-আইন/২০২৬’ মূলে এই ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব ড. আশফিকুন নাহার। প্রজ্ঞাপনটি গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা-৩ এর উপধারা (১) অনুযায়ী, সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার তফসিলে উল্লেখিত পল্লী এলাকাগুলোকে ‘শহর এলাকা’ ঘোষণার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে সরকার। আইনের ধারা অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চাইলে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি জানাতে পারবে এবং উত্থাপিত যেকোনো আপত্তি সরকার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে।
রাজবাড়ী হবে জাদুঘর, বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রবাসীর কল্যাণ মন্ত্রীর ঘোষণা
সিলেট-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জৈন্তাপুরকে পৌরসভায় উন্নীত করতে জোরালো তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।
গত ৩০ মে (শনিবার) জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে—
"জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী ‘রাজবাড়ী’-কে একটি আধুনিক জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে জৈন্তাপুরকে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।"
মন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতির পর স্থানীয় সরকারের পরিধি সম্প্রসারণ ও নাগরিক সেবা সহজলভ্য করার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হয়, যা এই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিলো।
আনন্দিত অবহেলিত সীমান্তবর্তী মানুষ
জৈন্তাপুরকে পৌরসভা ঘোষণার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। এর ফলে অবহেলিত এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা উন্নত অবকাঠামো, পরিকল্পিত নগরায়ণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধাসহ ডিজিটাল পৌরসেবা পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় সচেতন মহল এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও বর্তমান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী।