
স্বামীর আন্তর্জাতিক প্রতারণা ও পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার শারমিন: ক্র্যাবে ব্রিটিশ নাগরিকের স্ত্রীর লোমহর্ষক বর্ণনা
স্টাফ রিপোর্টার, আরিয়ান | দৈনিক জীবনযাত্রা:
বিয়ের পর রাজকীয় জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে গৃহবন্দী করে রাখা, স্বামীর একাধিক নারীর সাথে পরকীয়া এবং পরবর্তীতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও সহযোগীদের দ্বারা দফায় দফায় অপহরণ, লোমহর্ষক শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিরুদ্ধে এক হৃদয়বিদারক ও পৈশাচিক অভিযোগ তুলেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার মেয়ে শারমিন চৌধুরী।
গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর স্বামী, বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক হাফিজ আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা ও বর্বরোচিত নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।
পরিচয় গোপন ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ে
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী শারমিন চৌধুরী জানান, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জের মৃত আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর ছেলে হাফিজ আহমদ চৌধুরীর সাথে মুসলিম শরীয়াহ্ অনুযায়ী তাঁর বিবাহ হয়। বিয়ের ৪/৫ বছর পর স্বামীর চরম নারীবাজ ও প্রতারক রূপ একে একে প্রকাশ পেতে থাকে। হাফিজ আহমদ চৌধুরী ইতিপূর্বে নিজের আসল পরিচয় ও পাসপোর্ট নাম (মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ, হাফিজ রাজা চৌধুরী) লুকিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। এমনকি পৈতৃক সম্পত্তি ব্যাংকের লোন থেকে ছাড়ানোর নামে বিয়ের পূর্বেও শারমিনকে জিম্মি করে অমানুষিক নির্যাতন করেছিলেন বলে তিনি জানান।
কোটি টাকার নোংরা কেলেঙ্কারি ও মানসিক হাসপাতালে বন্দি
শারমিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সংসার জীবনে তাঁকে ও তাঁর দুই সন্তানকে সিলেটের নয়া সড়কের বাসায় জিম্মি ও গৃহবন্দী করে রাখা হতো। হাফিজ তাঁর অবৈধ উপার্জনের কোটি কোটি টাকা দিয়ে বাইরে বিভিন্ন নারীদের নিয়ে নোংরা কেলেংকারীতে মেতে থাকত। এর প্রতিবাদ করায় এবং স্বামীর পরকীয়ার অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায়, ২০২৩ সালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও দেবর ব্যারিস্টার মুস্তাকিম রাজা চৌধুরীসহ অন্যরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয়।
তিনি আরও জানান, সিলেটে প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে কোনো আইনী সহায়তা না পেয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দিলে, অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে কৌশলে তাঁকে ঢাকায় এনে এবং সিলেটে নিয়ে চেতনানাশক ও সাইকিয়াট্রিক (মানসিক রোগের) ঔষধ খাইয়ে জোরপূর্বক মানসিক হাসপাতালে আটকে রাখে এবং স্লো-পয়জন (ধীরে ধীরে কার্যকর হওয়া বিষ) দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়।
যুবদল নেতাসহ সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণ
লিখিত বক্তব্যে শারমিন চৌধুরী তাঁর ওপর হওয়া সাম্প্রতিকতম বর্বরতার বর্ণনা দিয়ে জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে হাফিজের আত্মীয় সেলিম চৌধুরী এবং পরবর্তীতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনশনরত অবস্থা থেকে তাঁর দেবরদের সরাসরি নির্দেশে রকিব গ্রুপের যুবদল নেতা নয়নসহ ১৫/২০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী তাঁকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
সন্ত্রাসীরা তাঁকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট এয়ারপোর্ট রোডের পর্যটন মোটেলে আটকে রেখে দিনের পর দিন অমানবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার চাইতে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে ও থানায় গেলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে তিনি সঠিক আইনী সহায়তা পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দুই সন্তানকে জিম্মি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
বর্তমানে তাঁর দুই পুত্র সন্তানকে হাফিজের রক্ষিত নারীদের মাধ্যমে জিম্মি করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে শারমিন চৌধুরী কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের নিষ্পাপ সন্তানদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া, দীর্ঘদিনের ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক বিচার এবং এই আন্তর্জাতিক প্রতারক ও নির্যাতনকারী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বর্তমান প্রশাসন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মিডিয়ার জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এই নারী।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শারমিন চৌধুরীর পরিবারের সদস্যসহ প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী।