১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশ ও শতভাগ নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
মোঃ মাহবুব আলম, বিশেষ প্রতিনিধি | দৈনিক জীবনযাত্রা:
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফল দ্রুত প্রকাশ এবং দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলোতে যোগ্য প্রার্থীদের শতভাগ নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
আজ ১২ জুলাই (রোববার) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যাশীরা এই দাবি জানান। বক্তারা বলেন, চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার মেধারী প্রার্থী বর্তমানে চরম মানসিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রার্থীদের চরম অনিশ্চয়তা
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যাশীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি খোরশেদ আলম। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুনিয়া তাসনিম, মিনু আক্তার, মাসুদ রানা, নিপা আক্তার, শাকিল মিয়া ও অনন্যা রানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নিবন্ধনের চূড়ান্ত ভাইভা দেওয়া প্রার্থীরা।
লিখিত বক্তব্যে প্রার্থীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অথচ এনটিআরসিএ (NTRCA)-র নিয়োগ কার্যক্রম নানা অজুহাতে বিলম্বিত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন যোগ্য প্রার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে বয়স হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে, যা শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শতভাগ নিয়োগের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষা খাতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা আবশ্যক। একই সাথে শূন্য পদে যোগ্য প্রার্থীদের শতভাগ প্যানেল ভিত্তিক বা সরাসরি নিয়োগ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। তারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গভীরতা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যাশীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে এবং নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে তারা পরবর্তীতে কঠোর ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে বাধ্য হবেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী